Wednesday, November 25, 2015

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রধান কারণ দারিদ্র্য

দুর্গম এলাকার প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার প্রধান কারণ দারিদ্র্য। সরকারি হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ হার আরেকটু বেশি। তবে ঝরে পড়াদের ৮০ শতাংশের পরিবারই শিক্ষার ব্যয় বহনে অক্ষম। এছাড়া অজ্ঞতা, পরিবারের উপার্জনে সাহায্য করা, পড়তে আগ্রহী না হওয়া, কাজ করতে বাধ্য হওয়াসহ কিছু কারণে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শিশুরা ঝরে পড়ে। আর সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর শিশু।

মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায়’ শীর্ষক সেমিনারে ব্র্যাকের গবেষণার প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার ফল তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ। সিলেটের গুয়াইনঘাট ও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ২ হাজার ৯০টি পরিবারের ওপর জরিপ করে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

গবেষণায় বলা হয়, তিন সদস্যের পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়ার হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, চার থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়ার হার ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ছয় থেকে সাত সদস্যের পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়ার হার ৪০ দশমিক ১ শতাংশ। ঝরে পড়া ছেলে শিশুদের ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ডে লেবার, ১৬ শতাংশ কৃষি কাজ, ৪ দশমিক ৭ শতাংশ মাছ ধরা, ৪ শতাংশ মুদি দোকানের কাজ এবং ১১ দশমিক ৪ শতাংশ অন্যান্য কাজ করে। এছাড়া হাওর এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের বেশিরভাগই স্কুলে ভর্তি হয় না।

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের ঝরে পড়ার হার হ্রাস ও ভর্তির হার বাড়লেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন করতে হলে এর গুণগত মান ও বাজেট বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দুর্গম এলাকায় শিশুদের মিড ডে মিল, যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এমডিজির অনেক লক্ষ্যই আমরা অর্জন করতে পেরেছি।#

Monday, November 23, 2015

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে নতুন কৌশল!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অত্যাধুনিক মাইক্রো ব্লুটুথ ডিভাইসের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক(সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিনব কৌশল নিয়েছে একাধিক চক্র। ঢাবিতে ভর্তির নিশ্চয়তায় চক্রগুলো পরীক্ষার্থী প্রতি তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে রেরিয়ে এসেছে প্রশ্ন ফাঁসের অভিনব কৌশলের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

আগামী শুক্রবার ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ঢাবির ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর বাইরের ২১ টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অত্যাধুনিক এবং শক্তিশালী মাইক্রো ব্লুটুথ ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস করার কৌশল নিয়েছে এসব চক্র।

একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সদস্যদের ফোনালাপের রেকর্ড থেকে জানা যায়, তারা ব্লুটুথ ডিভাইসের(টেলিযোগাযোগে সক্ষম) মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর সাথে বাইরে থেকে যোগাযোগ করবে। এ জন্য পরীক্ষার্থীর কাছে থাকবে খুবই ক্ষুদ্র একটি ডিভাইস। যার মাধ্যমে তিনি বাইরে থাকা আরেকটি ডিভাইসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।

ডিভাইসটি খুবই ক্ষুদ্র হওয়ায় তা বহন করতেও সমস্যা হবেনা। মেয়েদের বোরকা বা হিজাবের সাথে এটি লাগানো থাকলে তা সহজে টের পাওয়ার উপায় থাকবে না। আর ছেলেদের মধ্যে যাদের বড় চুল রয়েছে তারা খুব সহজেই চুলের মধ্যে লুকিয়ে পারবে ডিভাইসটি। 

আর যাদের চুল ছোট তাদের মাথায় অসুস্থতার অজুহাতে থাকবে ব্যান্ডেজ। এই ব্যান্ডেজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখা যাবে ডিভাইসটি।

অসুস্থতা প্রমাণের জন্য তাদের কাছে মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং ডাক্তারি প্রত্যয়ন পত্র রাখা হবে। যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারে।
কথা বললে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এরা সাংকেতিক ভাষায় যোগাযোগ করবে। 

সাংকেতিক যোগাযোগের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, বিভিন্ন সেটের প্রশ্ন থাকবে পরীক্ষায়। প্রশ্ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই পরীক্ষার্থী সংকেতের মাধ্যমে জানাবে সে কোন সেটের প্রশ্ন পেয়েছে।

যদি ‘ক’ সেটের প্রশ্ন পায় তাহলে সে ছোট করে একটি কাশি দিবে। আর তাতেই চক্রটি বুঝে যাবে সে ‘ক’ সেটের প্রশ্ন পেয়েছে। এভাবে দুটি কাশি দিলে ‘খ’ সেট, তিনটি কাশিতে ‘গ’ সেট এবং চারটি কাশিতে ‘ঘ’ সেটের সংকেত প্রেরণ করা হবে।

আর সংকেত অনুযায়ী বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র সমাধান করে ডিভাইসের মাধ্যমেই ওই পরীক্ষার্থীকে উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে।

জানা ‍যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় চক্রটির টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রগুলোকে।

টাকার মাধ্যমে এসব কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক ও পিয়নদের সাথে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। যাতে করে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রশ্ন বাইরে বের করে আনা যায়। বিভিন্ন সেটের অন্তত একটি করে প্রশ্নপত্র বাইরে বের করে আনা হবে।

প্রশ্ন সমাধান করার জন্য কেন্দ্রের বাইরে থাকবে চক্রটির একাধিক চুক্তিবদ্ধ কোচিং শিক্ষক। তারা দ্রুত সমাধান করে উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রেরণ করবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ‘গ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইতুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘কোন ভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র বাইরে বের হতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রে। আর প্রতিটি কেন্দ্রেই আমাদের একজন নিজস্ব পরিদর্শক থাকবেন। যারা সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এএম আমজাদ বাংলনিউজকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবো। সবাইকেই চেক করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হবে। মেয়েদের সার্চ করার জন্য আমাদের মহিলা শিক্ষকদেরকে নির্দেশ দেওয়া হবে।’

ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তকরণ যন্ত্র কেন্দ্রগুলোতে থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছর এরকম কোন যন্ত্র থাকবেনা। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রশ্নফাঁসকারী এসব চক্রের সাথে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের যোগসাজোশ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Sunday, November 22, 2015

শাবির এ ইউনিটে প্রথম স্থানে বুশরা জান্নাত

5aad741c-8f8c-4a5c-8080-9e0c6e1d536dশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ সেশনে ‘এ’ ইউনিটের মানবিক বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় বুশরা জান্নাত প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সে সুনামগঞ্জ শহরের মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা পোষ্ট অফিস পরিদর্শক মো. ফারুক আহমদের তৃতীয় কন্যা।
উল্লেখ্য যে, বুশরার অপর বোন সুলতানা জান্নাত সাফি উক্ত ভর্তি পরীক্ষায় ৩৭তম স্থান লাভ করেছে। তারা ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। তারা সকলের দোয়া প্রত্যাশী।

সোমবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ৩০ নভেম্বর

হরতালের কারণে সোমবার অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হবে ৩০ নভেম্বর। রোববার সকালে এক বৈঠকে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে বাংলা পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

প্রাথমিক সমাপনী থাকবে কি না ভেবে দেখা হবে’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা যখন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হয়ে যাবে তখন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকবে কি থাকবে না, তা ভেবে দেখা হবে।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে পরীক্ষার হলে যাননি মন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার স্তর যখন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে তখন দুটি (প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী ও জেএসসি-জেডিসি) পরীক্ষা না রেখে একটি রাখা যায় কি না, তা ভাবা হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হওয়ার কথা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। তবে কোনো দুষ্টু লোক যদি কোনো ছোটখাটো ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে সেটা মনে করে পরীক্ষা একদিন পেছানো হয়েছে। তিনি জানান, জামায়াত হরতাল ডাকায় কাল সোমবারের পরীক্ষা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর নেওয়া হয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো আট সেট প্রশ্নপত্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দুষ্টু মানুষ দুষ্টু বুদ্ধি নেয়। সরকার তাই কৌশলী হয়েছে।’#